Ramagya
সব নিবন্ধ
Vastu Shastra

বাস্তু অনুসারে বাড়িতে পূজাঘর কোথায় বানাবেন: দিক ও স্থানের সহজ নির্দেশিকা

गुरु राधे मोहन·28 October 2026· 3 মিনিট
वास्तु के अनुसार घर में पूजा घर कहाँ बनाएँ: दिशा और स्थान का सरल मार्गदर्शन

নতুন বাড়ি পাওয়া নিজে থেকেই অনেক আনন্দের ব্যাপার, কিন্তু জিনিসপত্র খুলতে শুরু করতেই মনে সবার আগে একটাই প্রশ্ন আসে: ঠাকুরের স্থান কোথায় করব? অনেক পরিবার বৈঠকখানা বা রান্নাঘরের কোণে একটা ছোট আলমারি লাগিয়ে কাজ চালিয়ে নেয়, কিন্তু পুজোর জন্য একটা শান্ত, পবিত্র ও সঠিক দিকের জায়গা পেলে প্রতিদিনের সাধনার মন নিজে থেকেই গড়ে ওঠে। এই লেখাটি সেই দ্বিধা সহজ করার জন্যই। এখানে পূজাঘর বাস্তু দিশা সংক্রান্ত ব্যবহারিক নিয়ম, উচ্চতার হিসাব, ফ্ল্যাটে সীমিত জায়গার সমাধান এবং পঞ্জিকা থেকে শুভ দিন বাছাইয়ের উপায় একসঙ্গে দেওয়া হয়েছে।

পূজাঘর বাস্তু দিশা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বাস্তুশাস্ত্রে মনে করা হয় প্রতিটি দিকের নিজস্ব স্বভাব ও শক্তির প্রবাহ থাকে। পূর্ব দিক থেকে সূর্য ওঠে, তাই একে আলো, জ্ঞান ও নতুন সূচনার দিক হিসেবে ধরা হয়েছে। উত্তর দিককে কুবের ও ধনের দিকের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। ঈশান কোণ অর্থাৎ উত্তর-পূর্বকে সবচেয়ে পবিত্র কোণ মনে করা হয়, কারণ সেখান দিয়ে শুভ শক্তি ঘরে প্রবেশ করে। এই কারণেই পূজার স্থান প্রায়ই এই দিকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

মনে রাখার কথা হল, বাস্তুকে কঠোর নিয়ম হিসেবে নয়, বরং সুবিধা ও শান্তির পথপ্রদর্শক হিসেবে দেখুন। বাড়ির নকশা যদি পুরোপুরি আদর্শ না মেলে, তবুও মূল সূত্র ধরে সবচেয়ে ভালো বিকল্পটি বেছে নেওয়া যায়।

পূজাঘরের জন্য সবচেয়ে শুভ দিক ও কোণ কোনটি?

আপনার প্রশ্ন যদি সরাসরি হয় যে পূজাঘর কোন দিকে হবে, তবে সবচেয়ে বেশি সুপারিশকৃত দিকগুলি এইরকম:

  • ঈশান কোণ (উত্তর-পূর্ব): সবচেয়ে উত্তম। এখানে পূজার সময় মুখ পূর্ব বা উত্তর দিকে থাকলে আরও ভালো।
  • পূর্ব দিকের দেওয়াল: ঈশান কোণ সম্ভব না হলে পূর্ব দিকে স্থান রাখুন।
  • উত্তর দিক: ধন ও সমৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত মানা হয়, তাই এটিও ভালো বিকল্প।

এড়িয়ে চলুন: দক্ষিণ-পশ্চিম (নৈঋত) কোণে পূজার স্থান করবেন না, এবং শোয়ার ঘরের ঠিক পিছনের দেওয়ালে বা শৌচাগারের দেওয়ার সঙ্গে সেঁটে মন্দির রাখবেন না। দক্ষিণ দিকে মুখ করে পুজো করাও সাধারণত এড়ানো হয়।

ঈশান কোণ না পাওয়া গেলে?

ফ্ল্যাটে প্রায়ই ঈশান কোণ সরাসরি পাওয়া যায় না। সেক্ষেত্রে বাড়ির নকশাকে পূর্ব-উত্তর দিক থেকে দেখুন। ব্যালকনির যে অংশটি পূর্ব বা উত্তর দিকে খোলা, অথবা বৈঠকখানার উত্তর-পূর্ব দেওয়াল, ভালো বিকল্প হতে পারে। খেয়াল রাখুন মন্দিরের ঠিক উপরে যেন শৌচাগার, সিঁড়ির নীচের অংশ বা ভারী বিম না থাকে।

পূজাঘরের উচ্চতা ও স্থান কীভাবে বাছবেন?

দিকের সঙ্গে উচ্চতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পূজার মন্দির এমন উঁচু হওয়া উচিত যাতে পরিবারের সদস্যরা আরামে দর্শন করতে পারেন, কিন্তু এত উঁচু যেন মাথার উপরে চলে না যায়। সাধারণ নির্দেশিকা এইরকম:

  • মন্দিরের নীচের অংশ মাটি থেকে প্রায় 2.5 থেকে 3 ফুট উপরে থাকুক, যাতে বসে পুজো করা সহজ হয়।
  • মন্দিরের মোট উচ্চতা প্রায় 5 থেকে 6 ফুটের মধ্যে রাখুন, এবং মূর্তিগুলি চোখের স্তরের কাছাকাছি থাকুক।
  • মন্দিরের ছাদ বা ওপরের অংশের ঠিক উপরে কোনো ভারী আসবাব বা জলের ট্যাঙ্ক না থাকুক।

স্থান বাছার সময় এই চেকলিস্ট দেখুন

  1. স্থানটি কি ঈশান বা পূর্ব/উত্তর দিকে?
  2. আশেপাশে কি শৌচাগার, ডাস্টবিন বা জুতো-চপ্পলের র‍্যাক নেই?
  3. এখানে কি পর্যাপ্ত আলো ও হাওয়া আসে?
  4. পুজোর সময় কি অস্বস্তি ছাড়া বসার জায়গা পাওয়া যায়?
  5. মন্দিরে কি দরজার সরাসরি ধাক্কা বা অতিরিক্ত যাতায়াত হয় না?

এর মধ্যে চারটি বা পাঁচটি বিষয় ঠিক মিললে বুঝে নিন স্থানটি ভালো।

ফ্ল্যাটে জায়গা সীমিত হলে পূজাঘর কোথায় করবেন?

বড় বাড়ির মতো ফ্ল্যাটে আলাদা ঘর থাকে না, তাই ছোট জায়গাতেও সম্মান ও শান্তি বজায় রাখা জরুরি। কয়েকটি ব্যবহারিক উপায়:

  • দেওয়ালে তৈরি তাক বা শেল্ফ: উত্তর বা পূর্ব দেওয়ালে আলাদা একটি শেল্ফ লাগান এবং সেটি পরিষ্কার কাপড়ে ঢেকে রাখুন।
  • বন্ধ করা যায় এমন আলমারি: কাঠের ছোট আলমারি যার দরজা আছে, তাতে মন্দির রাখুন এবং পুজোর পর দরজা বন্ধ করতে পারুন।
  • কোণের ব্যবহার: উত্তর-পূর্ব কোণে একটি ছোট মঞ্চ বা স্টুল রেখে তার উপর মন্দির সাজান।

ছোট জায়গায় একটি নীতি মনে রাখুন: পরিচ্ছন্নতা ও গোছানো ভাব দিকের চেয়েও বেশি প্রভাব ফেলে। মন্দিরের কাছে জুতো, ধুলো বা ছড়ানো জিনিস যেন না থাকে।

পূজাঘর স্থাপনের জন্য পঞ্জিকা থেকে শুভ দিন কীভাবে বাছবেন?

বৈদিক ঐতিহ্যে নতুন কাজ শুরুর আগে পঞ্জিকা দেখার রীতি আছে। পঞ্জিকার পাঁচটি অঙ্গ: তিথি, বার, নক্ষত্র, যোগ ও করণ। পূজাঘর স্থাপন বা মূর্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সাধারণত এই বিষয়গুলি দেখা হয়:

  • বার: সোম, বুধ, বৃহস্পতি ও শুক্রবার শুভ মানা হয়। মঙ্গল ও শনিবার নতুন নির্মাণ বা প্রতিষ্ঠা থেকে বিরত থাকা হয়।
  • নক্ষত্র: রোহিণী, উত্তরফাল্গুনী, অনুরাধা, উত্তরাষাঢ়া, শ্রবণা, রেবতী ইত্যাদি স্থির ও মঙ্গলকর মানা হয়।
  • তিথি: দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, পঞ্চমী, সপ্তমী, দশমী ও একাদশী সাধারণত শুভ। রিক্তা তিথি (চতুর্থী, নবমী, চতুর্দশী) সাধারণত এড়ানো হয়।
  • চন্দ্রের অবস্থান: জন্ম রাশি অনুযায়ী চন্দ্র অনুকূল ভাবে থাকলে মুহূর্ত আরও ভালো মানা হয়।

ভারতীয় প্রেক্ষাপটে অক্ষয় তৃতীয়া, গুড়ি পড়ওয়া, দীপাবলির আগে ধ

পূজা ঘর বাস্তু দিশা: সঠিক স্থান ও দিকের সহজ নির্দেশিকা | Ramagya Astrology