কর্ণের দানশীলতা
कर्ण
কর্ণ ছিলেন মহাভারতের সর্বশ্রেষ্ঠ দাতা। তিনি ছিলেন সূর্যদেবের পুত্র এবং জন্মের সময় থেকেই তাঁর শরীরের সাথে স্বর্ণময় কবচ ও কুণ্ডল একীভূত হয়ে ছিল, যা তাঁকে কার্যত অপরাজেয় করে তুলেছিল। কর্ণ দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে তিনি কখনো কোনো প্রার্থীকে খালি হাতে ফেরাবেন না, বিশেষত সূর্যোদয়ের সময় দান করতে বসলে। মহাযুদ্ধের আগে দেবরাজ ইন্দ্র জানতেন যে কর্ণ যতদিন তাঁর দিব্য কবচ পরিধান করে থাকবেন, ততদিন কেউ তাঁকে পরাজিত করতে পারবে না। নিজের পুত্র অর্জুনকে রক্ষা করার চিন্তায় উদ্বিগ্ন হয়ে ইন্দ্র একজন ব্রাহ্মণের বেশ ধারণ করে কর্ণের কাছে এলেন এবং দানস্বরূপ তাঁর কবচ ও কুণ্ডল ভিক্ষা চাইলেন। সূর্যদেব আগেই কর্ণকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে ইন্দ্র ছদ্মবেশে তাঁর কবচ নিতে আসবেন। তবুও কর্ণ ঘোষণা করলেন যে তিনি কখনো কোনো সাহায্যপ্রার্থীকে ফিরিয়ে দেননি। আসন্ন যুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত যে তাঁর পরিণতি নির্ধারণ করে দেবে তা জেনেও কর্ণ নিজের শরীর থেকে কবচ ও কুণ্ডল ছিঁড়ে নিয়ে ইন্দ্রের হাতে তুলে দিলেন। কর্ণের এই অসাধারণ ঔদার্যে ইন্দ্র এতটাই অভিভূত হয়ে পড়লেন যে তিনি বিনিময়ে কর্ণকে তাঁর শক্তি অস্ত্র প্রদান করলেন, যা কেবলমাত্র একবারই ব্যবহার করা যাবে।
নৈতিক শিক্ষা
একজন প্রকৃত দাতা নিঃস্বার্থভাবে দান করেন, এমনকি নিজের জীবনের বিনিময়েও।