নরসিংহ অবতার
विष्णु
হিরণ্যকশিপু ভগবান ব্রহ্মার কাছ থেকে এক অসাধারণ বর লাভ করেছিলেন — তাকে মানুষ বা পশু কেউ বধ করতে পারবে না; দিনে বা রাতে নয়; অস্ত্র বা যন্ত্র দিয়ে নয়; ঘরের ভেতরে বা বাইরে নয়; মাটিতে বা আকাশে নয়। এই বর তাকে বিশ্বাস করিয়েছিল যে সে অমর। তার পুত্র প্রহ্লাদ ছিলেন বিষ্ণুর একনিষ্ঠ ভক্ত। হিরণ্যকশিপু বহুবার প্রহ্লাদকে হত্যা করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু প্রতিবারই বিষ্ণু তাকে রক্ষা করেছিলেন। একদিন ক্রোধে উন্মত্ত সেই অসুররাজ একটি স্তম্ভের দিকে আঙুল তুলে জানতে চাইলেন, প্রহ্লাদের বিষ্ণু কি এই স্তম্ভের ভেতরেও আছেন। প্রহ্লাদ শান্তভাবে উত্তর দিলেন যে ঈশ্বর সর্বত্র বিরাজমান। হিরণ্যকশিপু তার গদা দিয়ে স্তম্ভটি চূর্ণ করলেন। সেই স্তম্ভের ভেতর থেকে ভগবান বিষ্ণু নরসিংহ রূপে আবির্ভূত হলেন — অর্ধেক মানুষ, অর্ধেক সিংহ। তিনি হিরণ্যকশিপুকে ধরে দেহলিজে বসলেন — যা না ভেতর, না বাইরে; সন্ধ্যার গোধূলিলগ্নে — যা না দিন, না রাত; অসুরকে নিজের কোলের উপর রাখলেন — যা না মাটি, না আকাশ; এবং নিজের নখ দিয়ে তাকে বিদীর্ণ করলেন — যা না অস্ত্র, না যন্ত্র। বরের প্রতিটি শর্ত এভাবেই পূরণ হলো। এরপর প্রহ্লাদ ভগবান নরসিংহের কাছে প্রার্থনা করলেন, এবং সেই উগ্র দেবতার ক্রোধ প্রশমিত হলো।
নৈতিক শিক্ষা
অহংকারের পতন সবসময় নিশ্চিত — ধর্মের চেয়ে বড় কোনো শক্তি নেই।