পরশুরামের ক্রোধ
विष्णु
পরশুরাম ছিলেন ভগবান বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার। তিনি ছিলেন মহর্ষি জমদগ্নি ও রেণুকার পুত্র। ভগবান শিবের কঠোর তপস্যার মাধ্যমে তিনি পরশু নামক একটি দিব্য কুঠার লাভ করেন, যা থেকেই তাঁর নামকরণ হয়। একদিন সহস্রার্জুন নামক এক অত্যাচারী রাজা মহর্ষি জমদগ্নির আশ্রমে এলেন। মুনির কাছে ছিল কামধেনু নামক একটি দিব্য গাভী, যা সকল ইচ্ছা পূরণ করতে সক্ষম। সহস্রার্জুন জোরপূর্বক সেই গাভীটি কেড়ে নেন। পরশুরাম এই সংবাদ জানতে পেরে সেই রাজার সঙ্গে যুদ্ধ করে তাকে বধ করেন। প্রতিশোধ নিতে সহস্রার্জুনের পুত্ররা মহর্ষি জমদগ্নিকে হত্যা করে। পরশুরাম যখন তাঁর পিতার নিথর দেহ দেখলেন, তখন তাঁর ক্রোধের সীমা রইল না। তিনি প্রতিজ্ঞা করলেন যে পৃথিবী থেকে সমস্ত অত্যাচারী ক্ষত্রিয় রাজাদের নির্মূল করবেন। পরশুরাম একুশবার পৃথিবী পরিভ্রমণ করলেন এবং যেখানেই অন্যায়কারী শাসক খুঁজে পেলেন, তাদের ধ্বংস করলেন। অবশেষে তিনি তাঁর ক্রোধ প্রশমিত করে তপস্যায় মনোনিবেশ করলেন। পরশুরামের কাহিনি এই শিক্ষা দেয় যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ক্রোধ ন্যায়সঙ্গত, কিন্তু তাকে শেষ পর্যন্ত অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।
নৈতিক শিক্ষা
অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো সঠিক, কিন্তু ক্রোধকে নিয়ন্ত্রণ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।